[email protected] শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ঢাবিতে একই আয়োজনে ছাত্রসংগঠনগুলোর মিলনমেলা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৩
আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ২১:০৩

ঢাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে ডুজার আলোচনা সভা ও ইফতার (সংগৃহিত ছবি)

Dhaka University Journalists' Association-এর উদ্যোগে University of Dhaka-এ ক্রিয়াশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ২০টি ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা এক ছাদের নিচে সমবেত হন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের Teacher-Student Centre (TSC), University of Dhaka মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার: প্রত্যাশিত শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ডুজার সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাদি হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাবির উপাচার্য Niaz Ahmed Khan বলেন, ডুজার উদ্যোগে প্রতি বছর বিভিন্ন মত ও দলের প্রতিনিধিরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পান। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সংলাপ ও সহাবস্থানের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেন সবসময় সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার উন্মুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠে—সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে।

ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) Saima Haque Bidisha বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করে এবং নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) Mamun Ahmed বলেন, এ ধরনের আয়োজন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করে, যা ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ শক্তিশালী করতে সহায়ক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে Bangladesh Open University-এর উপাচার্য Obaidul Islam বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকরা সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেন এবং ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

অনুষ্ঠানে Dhaka University Central Students' Union (ডাকসু)-এর সহ-সভাপতি Abu Sadiq Kayem বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ অর্জিত হয়েছে। তিনি ডাকসু নির্বাচনকে বার্ষিক ক্যালেন্ডারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারাও ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ও সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। Jatiyatabadi Chhatra Dal-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক Nasir Uddin Nasir বলেন, আসন্ন ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ‘মব সংস্কৃতি’ শেষ হবে বলে তারা আশা করছেন।

অন্যদিকে Islami Chhatra Shibir-এর সেক্রেটারি জেনারেল Sibghatullah Sibgha বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের আয়োজনে সব ছাত্রসংগঠনের একত্র হওয়া ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে।

এছাড়া Bangladesh Chhatra Maitree-এর সাধারণ সম্পাদক Jabir Ahmed Jubel, Bangladesh Chhatra Odhikar Parishad-এর সভাপতি Nazmul Hasanসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা শিক্ষাঙ্গনে সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক Mohammad Jahangir Alam Chowdhury, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক Morshed Hasan Khan, ছাত্রশক্তির সভাপতি Jahid Ahsan, ছাত্রপক্ষের সভাপতি Mohammad Prince, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক Armanul Haque, Islami Chhatra Andolon Bangladesh-এর সভাপতি Muntasir Ahmed এবং Socialist Students Front (Marxist)-এর সভাপতি Salman Siddiqui।

আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান, সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা এবং সম্প্রীতির পরিবেশ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর