[email protected] বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

সুন্দরপুর ইউনিয়নে বিএনপির ২৫ নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

আসাদুল্লাহ

প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২
আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০২

ছবি- আলোকিত গৌড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের উদ্যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার আব্দুস সামাদ কলেজ মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আমীর হাফেজ আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমান, সদর উপজেলার সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “সারা বাংলাদেশে এখন দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের দুই ভাইয়ের শাসন ও নির্যাতন দেখেছে। এবার মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচিত হলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন ও বেকারত্ব হ্রাসে কাজ করব। বেকার ভাতা দিয়ে নয়, যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা হবে। তরুণরাই দেশের আসল শক্তি।”

চার ও দিয়ার এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চর ও দিয়ার অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটানো হবে। এসব এলাকাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দুর্নীতি করব না, কাউকেও করতে দেব না। মামলা বাণিজ্য ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়ে তোলা হবে।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন, নূরুল ইসলাম বুলবুল নির্বাচিত হলে চর ও দিয়ার অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।

বক্তারা আরও বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জকে আর চাঁদাবাজদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে নূরুল ইসলাম বুলবুলকে বিজয়ী করতে হবে।”

এ সময় জানানো হয়, কয়েকটি দিয়ার ইউনিয়নকে নিয়ে ভবিষ্যতে দিয়ার উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাকাতের অর্থ সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

জনসভা শেষে সুন্দরপুর ইউনিয়নের বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। যোগদানকারীরা হলেন—

মোঃ লিয়াকত আলী (মাস্টার), পিতা: ধুলু নিশ্বাস; মোঃ শহিদুল ইসলাম, পিতা: মৃত একরামুল হক; মোঃ জুয়েল আলী, পিতা: মেশের আলী; মোঃ টুকু মেম্বার, পিতা: মুনসুর আলী; মোঃ মেনু রহমান, পিতা: মোঃ মোফাজ্জল হোসেন; মোঃ রয়েল, পিতা: মোঃ শাহজাহান আলী; মোঃ ফাহিম মড়ল, পিতা: আঃ সালাম; মজিবুর মেম্বার, পিতা: আলতাব হোসেন; মোঃ মানিক আলী, পিতা: মোঃ আঃ বাশির; মোঃ কামাল হোসেন (ফুকা), পিতা: মোঃ আজাহার আলী; মোঃ হাবিবুর রহমান; মোঃ ফড়িং আলী, পিতা: আফতাতাব উদ্দীন; মোঃ ফটিক আলী, পিতা: তাজেমুল ডাক্তার; মোঃ অসিম আলী; মোঃ শফিকুল ইসলাম কাটালী, পিতা: মোঃ কালুমুদ্দীন; আলম হোসেন (ডাক্তার); মোঃ আতাবুর রহমান, পিতা: মকবুল হোসেন; জাব্বার আলী, পিতা: মৃত আজহার আলী; আলামিন, পিতা: লিয়াকত আলী (মাস্টার); আসরাফুল হক, পিতা: মৃত সাঈদ আলী; বাবলু, পিতা: বিসু; নাইমুল হক, পিতা: মৃত মকবুল হোসেন; আঃ গফুর; ওমর আলী; গোলাপ, পিতা: আঃ সালাম; তোফাজ্জল হক, পিতা: তমিজ উদ্দিন এবং তোজামুল হক, পিতা: জলিশ মন্ডল।

সভা শেষে বক্তারা নূরুল ইসলাম বুলবুলের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট ও দোয়া কামনা করেন এবং চাঁদাবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর