[email protected] শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
৫ আষাঢ় ১৪৩৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৩ জাতের আম নিয়ে তিন দিনব্যাপী আম মেলা শুরু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ১৫:১৬

সংগৃহিত ছবি

আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশি-বিদেশি ১৮৩ জাতের আম নিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘আম মেলা’। তোতাপুরি, জাদুজেম, শরবতি, ব্রুনাই কিং, কিউজাইসহ নানা জাতের আমের সমাহারে জমে উঠেছে এ আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে শনিবার পর্যন্ত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত মেলায় জেলার বিভিন্ন এলাকার আমচাষি, উদ্যোক্তা ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে একাধিক স্টল বসানো হয়েছে।

শুক্রবার সকালে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে ‘আমের জাত প্রদর্শনী’ স্টল। সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত ১৮৩ জাতের আম একসঙ্গে প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রদর্শিত আমগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাব্বিশ হাজারী গুটি, চাষা বুলি, কিউজাই, কেইট, ব্রুনাই কিং, ঊষাপন্নি, দিলসাদ, জাদুজেম, শরবতি ও তোতাপুরিসহ নানা পরিচিত ও অপরিচিত জাতের আম।

মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এক জায়গায় এত বৈচিত্র্যময় আমের সমাহার তারা আগে কখনো দেখেননি। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে জানছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

দর্শনার্থীরা বলেন, “কিশোরগঞ্জেও আম উৎপাদন হয়। কিন্তু এত জাতের আম আগে কখনো দেখিনি। আমরা জানতাম পাঁচ-ছয় ধরনের আমই বেশি প্রচলিত। এখানে এসে বুঝলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের কত বৈচিত্র্য রয়েছে। এত ধরনের আম একসঙ্গে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।”

তারা আরোও বলেন, “আমার বাড়ি এ জেলাতেই। কিন্তু এত জাতের আমের নাম আমি জীবনেও শুনিনি। এখানে এসে নিজ চোখে দেখলাম। একেকটি আমের ওজন দেড় কেজিরও বেশি। এমন অনেক আম রয়েছে, যেগুলোর নামও আগে জানতাম না।”

আয়োজকরা জানান, মেলায় প্রদর্শিত প্রতিটি আমের স্বাদ, রং, আকৃতি ও বৈশিষ্ট্য আলাদা। একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসব জাতের অনেক আমের চাষ হলেও সময়ের পরিবর্তনে বেশ কিছু জাত এখন বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মকে এসব দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় জাতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং আমের বৈচিত্র্য তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান বলেন, “জেলার বিভিন্ন এলাকার পুরোনো ও নতুন বাগান থেকে এসব আম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রদর্শিত জাতগুলোর মধ্যে কিছু বিদেশি জাত থাকলেও অধিকাংশই দেশীয়। হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন জাতের আম সংরক্ষণ ও মানুষের মাঝে পরিচিত করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জেলায় বাণিজ্যিকভাবে সীমিত কয়েকটি জাতের আমের চাষ বেশি হলেও গবেষণা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে অন্যান্য জাতগুলোকেও টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। আমকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং জেলার ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর