চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মো. মাহফুজ রায়হানের বদলিকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জেলার শিশু স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম নির্ভরতার নাম হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসকের বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন আলোচনায় অসংখ্য মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেকেই তার চিকিৎসাসেবা, পেশাগত দক্ষতা এবং রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণের প্রশংসা করে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে ডা. মাহফুজ রায়হান শিশু ও নবজাতক চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, কোভিড-১৯ মহামারী এবং সাম্প্রতিক হাম মহামারীসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সংকটে তার সক্রিয় উপস্থিতি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা স্থানীয় মানুষের কাছে তাকে একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বদলির খবর প্রকাশের পর বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামত তুলে ধরছেন।
আব্দুল্লাহিল কাফি নামের একজন স্বেচ্ছাসেবী লিখেছেন,“এইরকম চিকিৎসক জেলা থেকে চলে গেলে কপালে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই নেই। একটা মহল পিছনে লেগেছে, তাদের উচিত জবাব দিতে না পারলে তারা জেলার চিকিৎসা সেবা ধ্বংস করে দিবে।”
তারই পোস্টের কমেন্টে আসাদুজ্জামান আসাদ মন্তব্য করেছেন, “একজন দক্ষ চিকিৎসককে ধরে রাখা এবং তার প্রতি ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাস্থ্যসেবাকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।”
শামীম রেজা নামের আরেকজন সেখানে মন্তব্য করেছেন, “ডাক্তার মাহফুজ রায়হান স্যারকে যদি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বদলি করা হয় তাহলে এর জন্য দায়ী থাকবো আমরা পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী। যারা স্যারকে পরিকল্পিতভাবে বদলি করছে তাদেরকে প্রতিবাদের মাধ্যমে রুখে দিতে হবে।”
অন্যদিকে উম্মে আসমা লুনা নামের একজন লিখেছেন, “খুব খারাপ লাগছে। শুরু থেকে মাহফুজ রায়হান স্যার ছাড়া কারো কাছেই যায় না। তার মতো এত ভালো মানুষের বিদায় অত্যন্ত দুঃখের।”
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা সাব্বির আহমেদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “এই বাংলাদেশে যেই মানুষটাই একটু সাধারণ মানুষদের পাশে দাঁড়ায় তার পেছনেই অদৃশ্য কালো সিন্ডিকেট উঠে পড়ে লাগে। সত্যিই ভাবতেও অবাক লাগছে এই বিষয়টা।”
এছাড়াও অনেকেই তার এই বদলী নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট এবং মন্তব্য করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব মন্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছেডা. মাহফুজ রায়হানকে শুধু একজন চিকিৎসক হিসেবেই নয়, বরং জেলার শিশু স্বাস্থ্যসেবার একজন আস্থাভাজন মুখ হিসেবে দেখেন অনেক মানুষ।
ডা. মাহফুজ রায়হানের বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। কিছু পোস্ট ও মন্তব্যে বদলির পেছনে রাজনৈতিক বা বিশেষ মহলের প্রভাব থাকার দাবি করা হয়েছে। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে তার বদলির প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্টারও প্রচার করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: