আজ বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানের মাধ্যমে লাখো মানুষের জীবন রক্ষায় অবদান রাখা রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য— “মানবতার এক ফোঁটা রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।”
রক্ত মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখনো রক্তের কার্যকর কোনো বিকল্প আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসূতি জটিলতা, থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষায় রক্তের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালন করা হয় রক্তের গ্রুপ আবিষ্কারক, নোবেলজয়ী অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনারের জন্মদিন উপলক্ষে। ১৮৬৮ সালের ১৪ জুন জন্ম নেওয়া এই বিজ্ঞানী ১৯০০ সালে রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন। তাঁর অবদানকে স্মরণ করে ২০০৫ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিকল্প নেই। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলেও এর মাত্র ৩১ শতাংশ আসে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের কাছ থেকে। বাকি রক্ত সংগ্রহ করা হয় আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, দুর্ঘটনাজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, বড় ধরনের অস্ত্রোপচার, থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য রক্তস্বল্পতা, হেমোরেজিক ডেঙ্গু এবং হিমোফিলিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য রক্ত বা রক্তের বিভিন্ন উপাদান সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, রক্তদানের আগে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি (এইডস), ম্যালেরিয়া ও সিফিলিসসহ পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের উপস্থিতি পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও ক্রসম্যাচিংও নিশ্চিত করতে হয়।
১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং কমপক্ষে ৪৫ কেজি ওজনের ব্যক্তি চার মাস পরপর রক্তদান করতে পারেন। তবে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকা, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া, গর্ভাবস্থা কিংবা কিছু বিশেষ ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে রক্তদান করা যায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রক্তদান নিয়ে সমাজে নানা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন রক্তদান করলে শরীর দুর্বল হয়ে যায় বা নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বাস্তবে এসব ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং নিয়ম মেনে রক্তদান করলে সুস্থ মানুষের কোনো ক্ষতি হয় না এবং একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।
তারা আরও বলেন, রক্তদান শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, এটি সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত মহৎ কাজ। একজন মানুষের দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে সংশ্লিষ্টরা সবাইকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরাপদ রক্তের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
স্লোগান:
“রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।”
“এক ব্যাগ রক্তদানে বাঁচতে পারে একটি প্রাণ।”
“রক্ত দিয়ে যুদ্ধ নয়, রক্ত দিয়ে জীবন জয়।”
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: