[email protected] সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

জেলা হাসপাতালেই মিলবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ১৩:১৮

সংগৃহিত ছবি

ঢাকার বড় বড় হাসপাতালের ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমাতে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এতে করে রোগীরা নিজ নিজ জেলাতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৫০০ শয্যার হাসপাতালেও প্রায় দুই হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের অনেককে হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান করতে হয়। তিনি বলেন, শুধু ঢাকার হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়িয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বরং জেলা হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসার সব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মানুষ নিজ জেলাতেই উন্নত চিকিৎসা পাবে এবং রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমবে।

বাজেটের মানবিক দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; বরং হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষা, ছানিজনিত অন্ধত্বে ভোগা প্রবীণদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া এবং ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা সহজ করার বাজেট।

তিনি জানান, গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ গত বছরের ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধির কারণে হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৯ শতাংশ রোগীকেই নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা থাইল্যান্ডে ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার শুধু হাসপাতাল ভবন নির্মাণে নয়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, কার্যকর রেফারাল নেটওয়ার্ক এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধী দল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার নিয়ে কোনো গঠনমূলক আলোচনা করছে না। তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো, জনবল, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

বক্তব্যের শেষাংশে নিজের নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘চর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি নদীভাঙন কবলিত খুকনী, জালালপুর, সনাতনীসহ চারটি ইউনিয়নের মানুষের সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর