যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ইসরায়েলি দৈনিক ইসরায়েল হায়োম-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে দুই মুসলিম দেশ—জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। অভিযানে যুক্ত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী পশ্চিমা মিত্র যুক্তরাজ্যও।
এই সামরিক অভিযানোকে একটি ‘মৌলিক কৌশলগত পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো রক্ষা করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সূত্র জানায়, হামলার পর ইরান যদি পাল্টা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, সেগুলো আকাশেই ধ্বংস করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এরই মধ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ইরানবিরোধী অভিযানে বর্তমানে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী ইতিহাসের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও সৌদি আরব, ওমান ও কাতার এই যুদ্ধের ঘোর বিরোধিতা করছে। সংঘাত এড়াতে তারা জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দেশের আশঙ্কা, যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ভয়াবহ অস্থিতিশীলতায় পড়বে।
এদিকে ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, দেশটির ওপর যেকোনো হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় ইসরায়েলি ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণার পর ইরানের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ ও যুদ্ধাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: