[email protected] মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২

তুরস্কে বিদেশি শিক্ষার্থীর জোয়ার, মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২০

ফাইল ছবি

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দিনদিন আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে তুরস্ক। বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশটিকে ঘিরে আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের পাশাপাশি শিক্ষার মান, ভৌগোলিক নিকটতা ও তুলনামূলক কম ব্যয় তুরস্ককে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

ইন্দোনেশিয়ার আজকা মাউলা ইসকান্দার মুদা সেই প্রবণতার একটি উদাহরণ। তিনি বর্তমানে ইস্তাম্বুলের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোচ ইউনিভার্সিটি-তে মাস্টার্স করছেন। জাপানের ব্যবসায়ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৬ বছর বয়সী মুদা বলেন, তার লক্ষ্য কম্পিউটিংয়ের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া। ভবিষ্যতে তিনি Nvidia, IntelMicrosoft-এর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান।

ইউরোপের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও তিনি স্নাতক পর্যায়ে বেছে নিয়েছিলেন আংকারার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শীর্ষ বিদ্যাপীঠ Middle East Technical University (মেটু)। তার মতে, একই ব্যয়ে সেখানে গবেষণা সুবিধা বেশি।

তুরস্কের উচ্চশিক্ষা পরিষদ YÖK জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ড ৩ লাখ ৭৯ হাজারে পৌঁছেছে। গত এক দশকে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২৫১ শতাংশ। বর্তমানে শুধু ইন্দোনেশিয়া থেকেই পড়ছেন ৫ হাজার ৪৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী, যা গত দশকে বেড়েছে প্রায় ৬৫৫ শতাংশ। একই সময়ে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর সংখ্যা চারগুণ বেড়ে ৬ হাজারের বেশি হয়েছে।

২০১৩ সালে যেখানে তুরস্কে বিদেশি শিক্ষার্থীর হার ছিল ০.৯ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে ৫.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ওয়াইওকের সভাপতি এরল ওজভার বলেন, তুরস্ক এখন মালয়েশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের সঙ্গে শিক্ষার্থী আকর্ষণে প্রতিযোগিতা করছে। দেশটিতে পড়তে আসা বিদেশিদের প্রায় ৮০ শতাংশ মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ থেকে আসে—এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং ১৪ শতাংশ আফ্রিকা থেকে।

২০২৬ সালের Times Higher Education ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ে তুরস্কের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ৫০০-তে জায়গা পেয়েছে। এর মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে কোচ ইউনিভার্সিটি, এরপর মেটু ও ইস্তাম্বুলের সাবাঞ্জি ইউনিভার্সিটি।

বিদেশি শিক্ষার্থীর উৎস দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে তুর্কমেনিস্তান। এরপর রয়েছে সিরিয়া, আজারবাইজান, ইরান, উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তান।

তবে দ্রুত শিক্ষার্থী বৃদ্ধির ফলে ভর্তি মান কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলেছেন কিছু বিশেষজ্ঞ। শিক্ষাবিদ আব্বাস গুচলু বলেন, ফি-নির্ভর ভর্তি নীতির বদলে মান উন্নয়নে জোর দেওয়া প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে ওয়াইওকে টিআর-ওয়াইওএস নামে নিজস্ব বিদেশি ভর্তি পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরিয়েট, জার্মান আবিতুর ও এসএটির ফলাফলও মূল্যায়ন করে থাকে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ৭৫ শতাংশ তুর্কি ভাষার প্রোগ্রামে এবং ২৩ শতাংশ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছেন। তুর্কি মাধ্যমে পড়তে হলে শিক্ষার্থীদের প্রথমে এক বছর ভাষা কোর্স সম্পন্ন করতে হয়।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের ৯৫ শতাংশ ব্যয় নিজেরাই বহন করেন এবং তারা তুরস্কের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখেন।

ভাষাগত চ্যালেঞ্জ ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মতো কিছু সমস্যা থাকলেও, অনেক শিক্ষার্থীর কাছে তুরস্ক এখন ‘নিরাপদ ও মানসম্মত বিকল্প’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে—বিশেষ করে যারা পশ্চিমা দেশে ভিসা জটিলতায় পড়ছেন।

সূত্র: নিক্কেই এশিয়া

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর