[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
২০ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানের পাল্টা হামলায় চার দিনে ২০০ কোটি ডলারের সরঞ্জাম ধ্বংস যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬, ২১:৩৭

সংগৃহিত ছবি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ের মাত্র চার দিনের মাথায় বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত চার দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। সংঘাতের শুরুতেই ইরানের পাল্টা হামলায় কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ মোট সাতটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে। সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক এএন/এফপিএস-১৩২ আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। কাতার কর্তৃপক্ষ কৌশলগত এই স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস এলাকায় অবস্থিত ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের রাডারও ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে।

কুয়েতে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনায় তিনটি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল নিশানা বা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ বিমানগুলো ভূপাতিত হয়। এসব বিমানের আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। তবে ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

অন্যদিকে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ইরানি হামলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল এবং একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরাকের এরবিল ও আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

সংঘাতের প্রভাব এখন সামরিক ঘাঁটির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই সংঘাত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর