ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক সমঝোতা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. ব্রুস ই. বেচটল জুনিয়র দাবি করেছেন, ইরানের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) কর্মসূচির পেছনে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা এই গোপন সহযোগিতা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে ইরানের এই সক্ষমতাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের হাতে আইসিবিএম তৈরির মতো প্রযুক্তি নেই। তবে বেচটলের গবেষণায় বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া থেকে ৮০ টন ওজনের রকেট বুস্টার ইরানে পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে, যা আইসিবিএম তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার এইচওয়াসং-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই ইরান তাদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকেই পিয়ংইয়ং ইরানকে ৮০ টনের রকেট বুস্টার তৈরিতে সহায়তা দিয়ে আসছে।
২০১৫ সালে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) নিয়ে আলোচনা চলাকালেও গোপনে উত্তর কোরিয়া থেকে তেহরানে রকেটের চালান পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
২০১৬ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ উত্তর কোরিয়া ও ইরানের কয়েকটি কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার এইচওয়াসং-১২ ও এইচওয়াসং-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত আরডি-২৫০ ইঞ্জিনের অনুকরণে ইরান তাদের নিজস্ব সিস্টেম তৈরি করেছে। এই ইঞ্জিন সমুদ্রপৃষ্ঠে প্রায় ৮০ টন থ্রাস্ট তৈরি করতে পারে, যা ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রায় ৮ হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম করে।
ড. বেচটলের দাবি অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া শুধু প্রযুক্তি দিয়েই থেমে থাকেনি; তাদের বিশেষজ্ঞরাও নিয়মিত তেহরান সফর করেছেন। উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কোরিয়া মাইনিং ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি’ ও ‘গ্রিন পাইন’-এর প্রতিনিধিরা বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সাল পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। একই সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ইরানি কর্মকর্তা সৈয়দ মীর আহমদ নুশিনকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
সূত্র: নাইনটিন ফোরটি ফাইভ।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: