ইরানের রাজধানী তেহরানে শুক্রবার ভোরে একাধিক ভারী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, তারা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করেছে এবং ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার ভোরে ইরানি গণমাধ্যম তেহরানে তীব্র বিস্ফোরণের খবর দেয়। এর কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েল জানায়, তারা রাজধানীর সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। দেশটির সামরিক প্রধান সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ এখন নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী টে হেগসেথ ঘোষণা করেন, ইরান ও তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ শিগগিরই আরও বাড়ানো হবে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তেল আবিব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে। এর আগে মধ্য ইসরায়েলের একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তেল আবিবে পরপর দুই দফা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং উত্তরের আকাশে রকেটের আলোর রেখা দেখেছেন।
এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইসরায়েলের প্রতিবেশী লেবাননেও। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলার পর ইসরায়েল লেবাননে একাধিক বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলের সতর্কবার্তার পর হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
বহু বাস্তুচ্যুত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বৈরুতের সমুদ্রসৈকতে। তাদেরই একজন ৬১ বছর বয়সী ইউসুফ বলেন, “আপনি বাঁচবেন কি না, সেটা এখন ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। কেন এই যুদ্ধ?”
অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে, একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আপাতত তিনি ইরানে মার্কিন স্থল সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন না। যদিও এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িত থাকতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। পরে ট্রাম্প খামেনির ছেলে মোজতোবা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে তাকে ‘দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে ইরানের ভেতরে যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের মাত্র প্রায় ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
রাজধানী তেহরানের কিছু এলাকায় স্বাভাবিক জীবনের আভাস মিললেও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ি বেড়েছে। স্থানীয় এক প্রকৌশলী জানান, নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় টহল দিচ্ছে, মানুষের ফোন পরীক্ষা করছে এবং অনেককে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এর প্রভাব বাড়ছে এবং নতুন সংঘাতের আশঙ্কা জোরদার হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: