[email protected] বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
৪ চৈত্র ১৪৩২

ইরানের হুঁশিয়ারি: ‘নতুন পর্যায়ের মারাত্মক হামলা’ শুরু, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৩

সংগৃহিত ছবি

মার্কিন ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘মারাত্মক ও কার্যকরী নতুন পর্যায়ের হামলা’ শুরু হয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিমান বাহিনীর কমান্ডার সরদার মৌসাভি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে Al Jazeera।

সরদার মৌসাভি বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সংঘাত এখন আরও তীব্র পর্যায়ে প্রবেশ করছে।

এদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো উত্তেজনা হ্রাস বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei। Reuters–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন—ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ‘নতজানু’ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নই আসে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানান, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম পররাষ্ট্রনীতি বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার বিষয়ে কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান নেন। তবে ওই বৈঠকে তিনি সরাসরি উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

একই সূত্র জানায়, দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিলেও সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। প্রস্তাবের জবাবে খামেনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরাজয় স্বীকার ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তির সময় আসেনি।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। Ali Khamenei–এর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মুজতাবা খামেনির নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। ইরানি কিছু সূত্র দাবি করেছে, যে হামলায় তার বাবা নিহত হন, সেখানে তিনি সামান্য আহত হয়েছিলেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, তার আঘাত গুরুতর ছিল।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz এখনও কার্যত অচল রয়েছে। এই নৌপথ সচল না থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে।

এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় মুজতাবা খামেনি বলেন, শত্রুদের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা উচিত। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য।

এদিকে, গত ১৪ মার্চ একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে Reuters জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের Donald Trump প্রশাসন।

সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর