২০২৬ সালের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ১৬৩টি দেশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪৫টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালের পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ সহিংসতার রেকর্ড, যার ফলে সূচকের প্রথম স্থানে অবস্থান করছে দেশটি।
অন্যদিকে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল তালিকার ১০ম স্থানে রয়েছে। শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ছয়টি দেশই সাব-সাহারান আফ্রিকার—যেমন বুরকিনা ফাসো, নাইজার, নাইজেরিয়া এবং মালি।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ভারত রয়েছে ১৩তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হলেও বৈশ্বিক তুলনায় অবস্থান কিছুটা স্থিতিশীল।
অন্যদিকে, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে বাংলাদেশ-এর ক্ষেত্রে। সূচকে দেশের অবস্থান ৪২তম, যা নির্দেশ করে যে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক তুলনায় দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।
শীর্ষ ২০ দেশের তালিকা (সংক্ষেপে):
পাকিস্তান, বুরকিনা ফাসো, নাইজার, নাইজেরিয়া, মালি, সিরিয়া, সোমালিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কলম্বিয়া, ইসরায়েল, আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, ভারত, মিয়ানমার, মোজাম্বিক, ইরাক, রাশিয়া, ইরান, বেনিন ও থাইল্যান্ড।
প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো:
মৃত্যুহার কমেছে: বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর হার ২৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৮২ জনে নেমেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন।
আইএস এখনো শীর্ষে: আইএস এখনো বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত।
টিটিপির উত্থান: তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান দ্রুততম বর্ধনশীল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে উঠে এসেছে।
পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বাড়ছে।
ইরান ঝুঁকিতে: ইরান ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হলে তা সন্ত্রাসবাদের নতুন কেন্দ্র হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার: ড্রোন, জিপিএস ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্রযুক্তির ব্যবহার সন্ত্রাসীদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে।
সূত্র: বিবিসি
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: