ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র এব্রাহিম জোলফাগারি বলেছেন, দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত পানিশোধনাগার (ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট), জ্বালানি স্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোও ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
এর আগে Donald Trump ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে আল্টিমেটাম দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি পুনরায় চালু না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, “এই মুহূর্ত থেকে” প্রণালীটি সম্পূর্ণভাবে এবং কোনো ধরনের হুমকি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz দিয়ে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিচালিত হয়। ফলে এই প্রণালিকে কেন্দ্র করে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ট্রাম্পের হুমকির পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা সতর্কতা আসে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এদিকে Fars News Agency জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক প্রধান Ali Larijani পূর্বেই সতর্ক করেছিলেন—দেশটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে হামলা হলে “আধা ঘণ্টার মধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারে”।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: