মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। Donald Trump যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র টোল আরোপ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ইরানকে কেন টোল নিতে দেওয়া হবে? বরং আমরাই কেন নেবো না? আমরা তো বিজয়ী—আমরাই জিতেছি।” শুরু থেকেই তিনি দাবি করে আসছেন, যুদ্ধে ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। Iran এখনো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতেও তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের মতে, ইরানের কৌশল মূলত মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা—যেমন সমুদ্রপথে মাইন পেতে রাখা। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা হলো প্রণালিতে টোল আরোপ করা।
পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা এই গুরুত্বপূর্ণ পথ Strait of Hormuz বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালিটির বেশিরভাগ অংশ ইরান ও Oman-এর জলসীমার মধ্যে অবস্থিত।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের এমন একটি চুক্তি দরকার যা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য, এবং তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—তেলের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা।”
এর আগে তেহরানকে ‘চূড়ান্ত’ আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি সতর্ক করেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানো হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf বলেছেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর আগের মতো থাকবে না।
এছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রোটোকল তৈরির কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, প্রণালির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সূত্র: আল-জাজিরা
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: