ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর-এ নতুন করে সহিংসতায় দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) অশান্ত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সেবা আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে মণিপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত চলছে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
কয়েক মাস শান্ত থাকার পর মঙ্গলবার ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, বিষ্ণুপুর জেলায় কুকি গোষ্ঠীর হামলায় মেইতেই সম্প্রদায়ের দুই শিশু নিহত হয়। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ মেইতেই জনতা একটি আধাসামরিক বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী গুলি চালালে আরও দুজন নিহত হন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সংঘাতপ্রবণ জেলাগুলোতে পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট ও মোবাইল ডাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষ্ণুপুর ও রাজধানী ইম্ফল-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়নাম খেমচাঁদ সিং-এর কার্যালয় জানিয়েছে, শান্তি নষ্টের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে হেলিকপ্টারসহ বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মণিপুরে প্রথম বড় আকারে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে কয়েক মাস ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। সে সময় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। চলমান উত্তেজনার কারণে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, জমি ও সরকারি চাকরির ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে এই বিভেদ আরও উসকে দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: