মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবানন ও ইসরায়েল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে Donald Trump জানান, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যা এ ধরনের প্রথম যোগাযোগ হতে পারে। তিনি Benjamin Netanyahu এবং Joseph Aoun-এর সঙ্গে ফোনালাপের পর এই তথ্য প্রকাশ করেন।
এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যুদ্ধবিরতির ছয়টি মূল শর্ত প্রকাশ করে, যা উভয় পক্ষ গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়।
যুদ্ধবিরতির শর্তসমূহ
১. ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল বিকাল ৫টা থেকে উভয় দেশ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ রাখবে। এই যুদ্ধবিরতি প্রথমে ১০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যাতে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির জন্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।
২. আলোচনায় অগ্রগতি হলে এবং লেবানন তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
৩. ইসরায়েল তার আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে এবং প্রয়োজন হলে সম্ভাব্য বা চলমান হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে যুদ্ধবিরতির সময় লেবাননের ভেতরে স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান চালাবে না।
৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য অনিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বা বৈরী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
৫. লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীকে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষার একমাত্র দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। অন্য কোনো গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র এই ভূমিকা দাবি করতে পারবে না।
৬. আন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্ধারণসহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
আলোকিত গৌড়/এম.আর
মন্তব্য করুন: