যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘কোয়াড’-এর উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকারের প্রতিক্রিয়ায় তীব্র অবস্থান নিয়েছে North Korea। পিয়ংইয়ং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কখনোই নিজেদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করবে না।
সম্প্রতি New Delhi-তে অনুষ্ঠিত কোয়াড জোটের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে চার দেশ। এর জবাবে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কখনোই ঘটবে না।”
কোয়াড জোটের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “কোয়াড হলো একমেরু আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়।”
বিবৃতিতে পিয়ংইয়ং কোয়াডের ‘বৈরী মনোভাবের’ তীব্র নিন্দা জানিয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, কোয়াডের সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য হচ্ছে Japan-এর পুনরায় অস্ত্রসজ্জা এবং Australia-র পারমাণবিক সাবমেরিন কর্মসূচিকে বৈধতা দেওয়া।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশটি নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় অটল থাকবে এবং অঞ্চলে ‘জোটভিত্তিক সংঘাত’ সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে।
এদিকে South Korea-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই কোয়াডকে এশিয়ায় North Atlantic Treaty Organization-এর সম্ভাব্য সংস্করণ হিসেবে দেখে আসছে। সিউলের মতে, এবারের প্রতিক্রিয়ায় মূলত জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে চীনের অবস্থানের প্রতিও সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে পিয়ংইয়ং।
অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালায় উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Kim Jong Un-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Korean Central News Agency।
কেসিএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি রকেট এবং এআই পরিচালিত প্রিসিশন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে কিম জং উন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, নতুন এআই পরিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন নিজেদের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকীকরণেও জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এসব আধুনিক অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণাও দিয়েছে দেশটি।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: