[email protected] বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন কৃষকরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭

সংগৃহিত ছবি

প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েত’-এ যোগ দিতে পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার কৃষক দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। তবে হরিয়ানা সীমান্তে তাদের পথরোধ করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাঞ্জাব থেকে যাত্রা শুরু করা কৃষকদের হরিয়ানায় প্রবেশের মুখ শম্ভু সীমান্তে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। ফলে তারা দিল্লির দিকে এগোতে পারেননি। অন্যদিকে, আমবালা, কুরুক্ষেত্র ও আশপাশের জেলা থেকে আসা হরিয়ানার স্থানীয় কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

কৃষকদের আটকে দিতে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে বড় বড় ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। এ দৃশ্য ২০২৪ সালের ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময়ও রাজধানীতে কৃষকদের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে কংক্রিট ব্লক, লোহার পেরেক ও বহুস্তরবিশিষ্ট ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল।

দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পেরে ক্ষুব্ধ কৃষকরা শম্ভু সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তারা হরিয়ানা ও পাঞ্জাব—উভয় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন।

বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভূখণ্ডের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যারিকেড স্থাপন করেছে। এ সময় পাঞ্জাব সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কেন এই আন্দোলন?

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েত’-এ পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অংশ নিচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি, প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।

কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির ফলে কৃষি, দুগ্ধ, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয় ও মেধাস্বত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত বিদেশি প্রতিযোগিতার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে।

তার দাবি, ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করলে দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এবং দুগ্ধ খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবার সরাসরি দুগ্ধ খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত সব নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো চুক্তি করা যাবে না।

সূত্র: দ্য হিন্দু

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর