অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও অধিকাংশ শিশু-কিশোর এখনো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। দেশটির ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-সেফটি পরিচালিত এক নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনেরও বেশি শিশু-কিশোর এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরও তাদের ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
ই-সেফটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর দুর্বল বয়স যাচাই ব্যবস্থা। অনেক প্ল্যাটফর্ম কার্যকরভাবে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে পারেনি। ফলে অনেকেই অ্যাকাউন্টে বয়স ১৬ বছরের বেশি দেখিয়ে বা যাচাই ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে আগের অ্যাকাউন্ট চালিয়ে যাচ্ছে কিংবা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে ৮৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি বয়সসীমাবদ্ধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করত। তিন মাস পরও সেই হার ৮১ শতাংশের বেশি রয়েছে। একইভাবে প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী কিশোরদের হারও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে এ হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ, যা পরে দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশে।
এ ছাড়া খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সরকারের দাবি ছিল, সাইবার বুলিং, যৌন শোষণ, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং আত্মক্ষতির মতো ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতেই এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো যদি ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি বয়স যাচাই প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আইন কার্যকর হওয়ার পরও অনেক শিশু সহজেই নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে বা পুরোনো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিতে দক্ষ কিশোররা ভিপিএন, ভুয়া জন্মতারিখসহ বিভিন্ন উপায়ে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী অ্যান্ড্রু লি অবশ্য এই আইনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, শতভাগ আইন মানা সম্ভব না হলেও এই উদ্যোগ অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়েছে এবং শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, মালয়েশিয়া ও গ্রিসও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ও ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার বাড়তে থাকায় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এখন বিশ্বজুড়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: