ছাত্র নেতৃত্বাধীন দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। তবে রাজনীতি থেকে সরে না গিয়ে আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন ভুচিচ। তার দ্বিতীয় ও শেষ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় সাত মাস আগেই তিনি পদ ছাড়লেন। তার পদত্যাগের পর সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী অথবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভুচিচ এবার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে লড়ছেন। তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের নোভি সাদ শহরের রেলস্টেশনে একটি কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশটিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। পরে ছাত্রদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন বড় আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসছেন।
আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল আগাম নির্বাচন। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৫ অক্টোবর সংসদীয় নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচনে ভুচিচের এসএনএস ও তাদের মিত্রদের পাশাপাশি ছাত্র নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং অন্যান্য বিরোধী জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
ভুচিচের পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পশ্চিম বলকান অঞ্চলের দেশগুলোও। সার্বিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকায় দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব আঞ্চলিক রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, চীনা বিনিয়োগ ও রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কও সার্বিয়ার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিবেশী ইইউ সদস্য দেশগুলোর তুলনায় দেশটির গড় মজুরি ও জীবনযাত্রার মান কম হওয়ায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচন শেষ হলেও সার্বিয়ার রাজনৈতিক সংকট সহজে কাটবে না। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: