[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আপিল, শুনানি ৯ জুন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ১৭:২৯

ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে একই দিন সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সেই বিধান বাতিল করা হয়, যেখানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত ছিল।

হাইকোর্টের রায়ের ফলে এসব দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে প্রণীত জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিট আবেদন করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর এ বিষয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানে বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করা হয়।

রিটকারীদের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। পরে ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির কাছে ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনী ও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান বিধান বহাল রাখা হয়।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর