ভ্যালেন্টাইনস ডে এলেই চারপাশে লাল গোলাপ, চকচকে কার্ড আর প্রেমিক যুগলের হাসি-মুখ চোখে পড়ে। অনেকের জন্য এটি আনন্দের দিন হলেও, যারা সম্প্রতি ব্রেকআপের মধ্যে আছেন তাদের কাছে দিনটি হয়ে উঠতে পারে চাপ ও একাকীত্বের প্রতিচ্ছবি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে বারবার ‘হ্যাপি কাপল’দের ছবি দেখা কিংবা বন্ধুদের প্রেমের গল্প শুনলে নিজের একাকীত্ব আরও তীব্র মনে হতে পারে। মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা মুহূর্তগুলো বাস্তব জীবনের পূর্ণ ছবি নয়। কিন্তু সেসবের সঙ্গে নিজের বাস্তবতাকে তুলনা করলে হতাশা ও একাকীত্বের অনুভূতি বাড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে কিছুটা সময় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন। এতে মানসিক চাপ কমে এবং নিজের আবেগ প্রক্রিয়াকরণ করার সুযোগ তৈরি হয়। নিজেকে সাময়িকভাবে এই তুলনার চক্র থেকে সরিয়ে নেওয়া মানে মনের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
আরও একটি কার্যকর কৌশল হলো—যেসব কাজ আপনার প্রাক্তন অপছন্দ করতেন, সেগুলো করা। সম্পর্কের সময়ে অনেকেই নিজের পছন্দের খাবার, ঘোরার জায়গা বা শখের কাজ থেকে বিরত থাকেন। ব্রেকআপের পর সেই কাজগুলো আবার শুরু করা মানে নিজের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণকে ফিরে পাওয়া। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং মনেও প্রশান্তি আসে।
মনোবিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী Psychology Today ও ওয়েলবিইং প্ল্যাটফর্ম Coaching Happiness–এ প্রকাশিত পরামর্শে বলা হয়েছে, ব্রেকআপ মানেই ব্যর্থতা নয়; এটি নতুন শুরু হতে পারে। এই সময়কে আত্ম-আবিষ্কার, আত্মসম্মান পুনর্গঠন এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নতুন করে বোঝার সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনটি কষ্টের স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেও এটিকে নিজের জন্য উদযাপনের দিন বানানো সম্ভব। বই পড়া, নতুন রেসিপি চেষ্টা করা, প্রিয় গান শোনা বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—এমন ছোট ছোট কাজও মানসিক পুনরুজ্জীবনে ভূমিকা রাখে।
সবশেষে তারা মনে করিয়ে দেন, ভ্যালেন্টাইনস ডে কেবল রোমান্টিক সম্পর্কের জন্য নয়। এটি নিজের সঙ্গে মানসিক শান্তি ও আনন্দ খুঁজে পাওয়ারও একটি দিন।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: