[email protected] রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘আবরণের আড়ালে প্রলোভন’- তরুণদের টার্গেট করছে তামাক শিল্প

আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ০৮:০২

ফাইল ছবি

আজ ৩১ মে, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’। ১৯৮৭ সালে World Health Organization দিবসটির সূচনা করে। এর মূল উদ্দেশ্য তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং তামাকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

২০২৬ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘আবরণের আড়ালে প্রলোভন-নিকোটিন ও তামাক আসক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ’। এবারের প্রতিপাদ্যে তামাক কোম্পানিগুলোর নতুন কৌশল এবং তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে চালানো গোপন প্রচারণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে তামাক কোম্পানিগুলো শুধু সিগারেট বিক্রিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং রঙিন প্যাকেট, ফ্লেভারযুক্ত ভেপ ও ই-সিগারেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, বিনোদন মাধ্যমে ধূমপানকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন এবং ‘কম ক্ষতিকর’ দাবি তুলে ধরে তরুণদের মধ্যে আসক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে প্রাণ হারান। বাংলাদেশেও ধূমপায়ীর সংখ্যা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ই-সিগারেট ও ভেপ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকের সবচেয়ে বিপজ্জনক উপাদান হলো নিকোটিন। এটি অত্যন্ত আসক্তিকর রাসায়নিক, যা মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়িয়ে সাময়িক প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে। তবে ধীরে ধীরে এটি নির্ভরতা তৈরি করে এবং ব্যক্তি সহজে ধূমপান ছাড়তে পারেন না।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, কৈশোরে নিকোটিন গ্রহণ করলে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যায়, মানসিক উদ্বেগ বাড়ে এবং ভবিষ্যতে মাদকাসক্তির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, তামাক মানবদেহের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের ক্ষতি করে। ধূমপানের কারণে ফুসফুস, মুখগহ্বর, গলা ও খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি হৃদরোগ, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতাও তৈরি হয়।

তামাকের কারণে গর্ভবতী নারী ও শিশুরাও মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন। এতে গর্ভপাত, কম ওজনের শিশু জন্ম এবং শিশুর শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে পরোক্ষ ধূমপানকেও ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একজন ধূমপায়ীর কারণে পরিবারের শিশু, নারী ও বৃদ্ধ সদস্যরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্যসচেতন মহল বলছে, তামাকবিরোধী লড়াই শুধু স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার আন্দোলন। এজন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার, চিকিৎসক, গণমাধ্যম ও তরুণ সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর