[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২২

সংগৃহিত ছবি

গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় একটি সমৃদ্ধ, নৈতিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সমৃদ্ধির মানদণ্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হবে। রাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রয়োজনেই এবং উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জ্ঞানী-গুণীদের সম্মানিত করে।

“রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানী-গুণীজনরাই প্রকৃত দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন। তাদের মেধা ও সৃষ্টিশীলতা সমাজকে সমৃদ্ধ করে,”—বলেন তিনি।

একুশকে অবিনাশী চেতনা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে বিজ্ঞজনদের অবদান অনস্বীকার্য। “আমরা ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণ করছি। একুশ আমাদের স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র,” যোগ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রসত্তা তিনটি ঐতিহাসিক আলোকধারায় নির্মিত—২১, ৭১ এবং জুলাই (গণঅভ্যুত্থান)। “২১ শিখিয়েছে অস্তিত্ব, ৭১ শিখিয়েছে মর্যাদা আর জুলাই শিখিয়েছে রাষ্ট্রকে ন্যায় ও জবাবদিহিতার আলোয় পুনর্গঠন করতে হয়। সংস্কৃতিই জাতির আত্মাকে রক্ষা করে,” বলেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, একুশে পদক কেবল একটি পুরস্কার নয়, এটি একটি আদর্শ ও দায়বদ্ধতার স্মারক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান জানান, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নয়জন গুণী ব্যক্তিকে পদক প্রদানের মাধ্যমে এই স্বীকৃতির যাত্রা শুরু করেন। ১৯৭৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৬০৫ জন ব্যক্তি ও ৯টি প্রতিষ্ঠান এই পদকে ভূষিত হয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক ও সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রাপ্তরা

অভিনয়: ফরিদা আক্তার ববিতা

চারুকলা: ড. মো. আব্দুস সাত্তার

স্থাপত্য: মেরিনা তাবাসসুম

সংগীত (মরণোত্তর): আইয়ুব বাচ্চু

নৃত্য: অর্থী আহমেদ

পালাগান: ইসলাম উদ্দিন পালাকার

সাংবাদিকতা: শফিক রেহমান

শিক্ষা: ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার

ভাস্কর্য: তেজস হালদার জস

সংগীতে সামগ্রিক অবদান: ওয়ারফেজ

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক প্রদান করা হচ্ছে। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেকে একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননা সনদ এবং নির্ধারিত অর্থ পুরস্কার পান। শিক্ষা, শিল্পকলা, সমাজসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর