গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফলে অধ্যাদেশটি আগামী ১২ এপ্রিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। তবে দলটি বলছে, অধ্যাদেশের আওতায় ইতোমধ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদ-এর বিশেষ কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে উত্থাপন করা হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সে অনুযায়ী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন না পেলে এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে।
কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠক শেষে জানান, গণভোট ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং অধ্যাদেশটির ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যবহার নেই। তাই এটি অনুমোদনের প্রয়োজন নেই এবং বিল আকারে আইনে পরিণত করারও দরকার হবে না।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৫টি অধ্যাদেশে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে মতৈক্য হয়নি। মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি দল। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
কমিটির সদস্য ও জামায়াতের এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনের প্রস্তাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ ও রায়ের ভিত্তিতে তা কার্যকর করা উচিত। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার কমিশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে।
বিশেষ কমিটি আগামী ২ এপ্রিল সংসদে প্রতিবেদন দেবে। কোন কোন অধ্যাদেশ পাস, সংশোধন বা বাতিল হবে—সেই সিদ্ধান্ত ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: