হাম ও রুবেলার টিকা যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আবেদন-পরবর্তী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলার আবেদন করেন।
মামলা খারিজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন লস্কর বলেন, “আমরা মামলাটি দায়েরের আবেদন করেছিলাম। আদালত ৪০৯ ধারাটি দুদক-সংশ্লিষ্ট ধারা বিবেচনায় নিয়ে আবেদন খারিজ করেছেন। অন্য ধারায় মামলাটি গ্রহণের আবেদন জানানো হলেও আদালত আদেশে বিস্তারিত উল্লেখ করবেন বলে জানিয়েছেন।”
মামলায় অভিযুক্ত করা হয় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরকে।
আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি বলেন, “বিগত সরকার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গেছে, যার কারণে টিকার অভাবে দেশে অনেক শিশু মারা গেছে। আমার এলাকাতেও শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই মামলার আবেদন করেছি।”
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশে শিশুদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত দেওয়া হয়। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা আমদানির প্রচলিত ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রায় দেড় বছর সময়ক্ষেপণ করায় দেশে টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয় এবং হামের প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করে।
বাদীর দাবি, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে সতর্ক করলেও আসামিরা তা আমলে নেননি।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশে ৭৫ হাজার ৭০৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সরকারি তথ্যমতে প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করে, আসামিরা প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় বনানী থানা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে আদালতে এ আবেদন করা হয়।
আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছিল।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: