[email protected] শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩

মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ১৩:৫৯

সংগৃহিত ছবি

চীন সফরের তৃতীয় দিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দেশের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। গত ২৪ জুন শুরু হওয়া তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা দিয়েছে ঢাকা।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিতে বিশেষ সুবিধা দিতে পারে চীন। তিনি চীনের প্রতি বাংলাদেশ থেকে তাজা আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, মাছসহ জলজ পণ্য, কাঁচা চামড়া, পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ আমদানির বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া দেশের শিল্পকারখানার আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ ২০১৬ সালে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এ যুক্ত হয়।

চীনের সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি মানসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে আগ্রহী বেইজিং। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

এর আগে বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর চীনের ঋণের পরিমাণ ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে বাংলাদেশ আরও ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই জ্বালানি খাতে।

তবে বেইজিংভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সিনিয়র অ্যানালিস্ট চিম লি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে চীন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক। তার মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সহজে সম্প্রসারণযোগ্য লজিস্টিক করিডোরে বিনিয়োগেই বেইজিং বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান সে ধরনের সরাসরি করিডোর সুবিধা না দেওয়ায় বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীন হিসাব-নিকাশ করেই এগোচ্ছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর