দেশের নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে দেশের ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই সারাদেশে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের পক্ষে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই দেশব্যাপী একটি সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে। এই শুমারির মাধ্যমে দেশের প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আধুনিক ডাটাবেজ তৈরি করে আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে মাঠপর্যায়ের জরিপ এবং ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে, যাতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৬৯ হাজার ৩৮৭টি নারী-প্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
ঢাকা-১৮ আসনে কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকার কিছু অংশে কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় পরিবার শুমারি সম্পন্ন করে চলতি অর্থবছরেই ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, শুমারি শেষ হওয়ার পর ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দপ্তরে সরবরাহ করা হবে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: