যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, প্রতিটি গণপরিবহনে ভেতরে ও বাইরে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা স্থাপন এবং একতলা বাসকে অবৈধভাবে ডাবল ডেকারে রূপান্তর বন্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
রোববার (২৬ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরানকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। এছাড়া দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে করা তার আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর গত মে মাসে আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ প্রকাশিত ‘আরামের আড়ালে মারণফাঁদ’ শিরোনামের প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাধারণ একতলা বাসের চেসিসের ওপর অনুমোদন ছাড়াই দ্বিতল স্লিপার বাস তৈরি করা হচ্ছে। এসব বাসে নিচতলায় বিজনেস ক্লাস ও ওপরতলায় স্লিপার সিট, আবার কোথাও দুই তলাতেই স্লিপার সিট রাখা হচ্ছে। সাধারণ বাসের তুলনায় বেশি উচ্চতার এসব যানবাহন অনুমোদন ছাড়াই চলাচল করলেও এ বিষয়ে বিআরটিএর কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানান, টাইপ অনুমোদন না থাকায় বর্তমানে স্লিপার বাস অনুমোদনের সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যেখানে চেসিস, বডির নকশা ও সিটের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে সাধারণ বাস হিসেবে অনুমোদন নিয়ে পরে সেটিকে রূপান্তর করে স্লিপার বাসে পরিণত করা হয়। তবে রূপান্তরের পর এসব বাস কীভাবে প্রতিবছর ফিটনেস সনদ পাচ্ছে—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: