[email protected] শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩

পাঠ্যবইয়ে নৌকা-দাঁড়িপাল্লা খুঁজতে হচ্ছে ‘বিশেষ কমিটি’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৮
আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১০

সংগৃহিত ছবি

পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ ঘটনায় সংস্থাটির ১৪ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় একজন এবং নৌকার ছবি-সংক্রান্ত ঘটনায় ১৩ জনকে বদলি করা হয়েছে।

তবে শুধু চিহ্নিত ভুল সংশোধনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না এনসিটিবি। নতুন করে সব শ্রেণির সব পাঠ্যবই পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার মতো বিতর্কিত ছবি কিংবা অন্য কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে বিশেষ কমিটি। দ্রুত পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করবে কমিটি।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে নৌকার ছবির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এসব ছবি ব্যবহারের ঘটনায় সমালোচনার পাশাপাশি পাঠ্যবই সম্পাদনা, ছবি নির্বাচন ও তদারকির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। এরপরই সব শ্রেণির পাঠ্যবই নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয় এনসিটিবি।

এদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের মোট ৩৯ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ কপি ছাপা হয়েছে। ভুল শনাক্ত হওয়ার পর বাকি বইগুলোর মুদ্রণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। সংশোধনের পর অবশিষ্ট বই ছাপানোর কাজ শেষ করা হবে।

এনসিটিবি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ছাপানো বইগুলোর ভুল সংশোধনে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না। সংশ্লিষ্ট ছাপাখানাগুলো নিজস্ব খরচে ভুল থাকা পৃষ্ঠা বা ফর্মা নতুন করে ছাপাবে। পরে বইগুলো পুনরায় বাঁধাই করে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জাগো নিউজকে বলেন, সব বইয়ে দাঁড়িপাল্লা ও নৌকার মতো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে কাজ চলছে। কোনো বইয়ে অসংগতি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করে স্কুলে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, ভুল বা অসংগতি থাকা পৃষ্ঠা সংশোধন করে নতুন করে ছাপানো হবে। এরপর বই পুনরায় বাঁধাই করে মাঠপর্যায়ে পাঠাবে ছাপাখানাগুলো। ছাপাখানাগুলো নিজস্ব খরচে এ কাজ করে দেবে। ফলে এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর