চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারেঘরিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা সাদরুল ইসলাম সানির নেতৃত্বে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ধানের শীষের পক্ষে শতাধিক মটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করা হয়েছে।
গত (০৪ ফেব্রুয়ারী) বারোঘরিয়া ইউনিয়নজুড়ে আ.লীগ নেতার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশীদের সমর্থনে এই মোটরসাইকেল শোডাউন করা হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা সাদরুল ইসলাম সানির মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিলকে ঘিরে সকল মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। আ.লীগের সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে এখন বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল শোডাউন মিছিল করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপিরই একাংশের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, জুলাই-আগষ্টে ছাত্রদের উপর হামলার অন্যতম আসামী হয়েও তিনি এখন বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণা করছেন!
অভিযোগ রয়েছে, জুলাই-আগষ্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর ককটেল নিক্ষেপ ও সন্ত্রাসী হামলা করে আ.লীগের নেতাকর্মীরা। এসময় কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও ছাত্রদের মারধর করে তারা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এনিয়ে মামলা দায়ের করা হয় আ.লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এই মামলায় একাধিক আ.লীগ নেতা গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন এই আ.লীগ নেতা সাদরুল ইসলাম সানি। বিভিন্ন পক্ষকে ম্যানেজ করেই এই মামলা থেকে দূরে থাকেন সানি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩ (সদর) আসনের সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদের বিশস্ত সহচর আ.লীগ নেতা সাদরুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, জুয়ার আসর চালানোসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে যান সাদরুল ইসলাম সানি। পরে এসব সম্পদ রক্ষায় ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যোগ দেন বিএনপির রাজনীতিতে। বিভিন্ন সভা সমাবেশ মিছিলে বিএনপি প্রার্থী হারুনের সাথে দেখা গেছে তাকে।
মোটরসাইকেল শোডাউনের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে সাদরুল ইসলাম সানি বলেন, আচরণবিধ লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা জানি না। আমার আগে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরাও মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে। জামায়াতের লোকজন করেছে তাই আমিও করেছি।
এবিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মুখপাত্র অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হোসেন তরফদার বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী মোটরসাইকেল শোডাউন বা মিছিল করা যাবে না। এনিয়ে সরেজমিনে কাজ করছে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ নভেম্বর সদর মডেল থানায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে সাবেক এমপি, দুই ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় আ.লীগ নেতা সাদরুল ইসলাম সানিসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদকে। অন্য আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাহিদ ইসলাম রাজন, বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. সাইফ জামান আনন্দ ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান আশিক, বারঘরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন, রামচন্দ্রপুরহাট এলাকার এন্তাজ মোড়ল ও তার ছেলে নাহিদুজ্জামান নাহিদ, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আবুল বাশার, আ.লীগ নেতা সাদরুল ইসলাম সানিসহ কয়েকজন সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৪ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছাত্র-জনতার সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জেলা শহরের শান্তিমোড় এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে যোগ দিতে ছাত্ররা বিভিন্ন জায়গা থেকে শান্তিমোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন কর্মসূচীতে যোগ দিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া থেকে মামলার বাদী ইউসুফ আলীসহ সাগর, সাকিব, রিফাত, নাফিস, বাবু ও আরও অনেকে অটোরিকশাযোগে শান্তিমোড়ের দিকে যাওয়ার সময় সাদরুল ইসলাম সানির নেতৃত্বে এ অতর্কিত হামলা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে মামলার এজাহারে।
আলোকিত গৌড়/জে.আর
মন্তব্য করুন: