রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে এক তরুণের মৃত্যু এবং বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সদরঘাট লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত মো. সোহেল (২২)-এর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং এমন মর্মান্তিক দৃশ্য সহ্য করা সত্যিই কঠিন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। একই সঙ্গে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
জামায়াতে ইসলামী’র নেতা আরও বলেন, সাম্প্রতিক এই দুটি দুর্ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, তদারকির অভাব এবং অবহেলার ফল। সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পাওয়া পূর্বানুমেয় ছিল, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, সতর্কতা ও কার্যকর তদারকি দেখা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত ভাড়া, চাঁদাবাজি এবং যাত্রীদের ভোগান্তি—এসব সমস্যার সমাধানে দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি বন্ধে তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদযাত্রার বাকি দিন ও ফেরার সময়ে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।
পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে নিহতদের মাগফিরাত, তাদের পরিবারের জন্য ধৈর্য ধারণের তাওফিক এবং আহতদের দ্রুত পূর্ণ আরোগ্য কামনা করেন।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: