জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধীদলীয় ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারি চাকরির পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপন না করা এবং আইনি জটিলতার কারণে বুধবার (২২ এপ্রিল) যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জোটের বাকি ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে কেউ সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারেন না।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মনিরা শারমিন চাকরি ছাড়ার মাত্র চার মাসের মাথায় প্রার্থী হওয়ার আবেদন করেছেন। এ কারণে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনজ্ঞদের মতে, আরপিওর বিধান অনুযায়ী তাঁর মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।
সংরক্ষিত নারী আসনে এবার বিরোধী জোটের ভাগে পড়েছে ১৩টি আসন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আটজন, এনসিপির দুইজন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাগপা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ এক শিশুর মাকে একটি করে আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। এনসিপির মনোনীতদের মধ্যে মনিরা শারমিন ছাড়াও রয়েছেন দলটির নারীশক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা আলম।
নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে কৃষি ব্যাংকে ‘অফিসার জেনারেল’ পদে নিয়োগ পান মনিরা শারমিন। প্রথমে কুষ্টিয়া শাখা এবং পরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট শাখায় কর্মরত ছিলেন তিনি। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ওই ব্যাংকে চাকরিতে ছিলেন। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দাখিল করায় বিষয়টি আরপিওর সরাসরি লঙ্ঘন হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: