বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে এনসিপি তাদের ‘রাজনৈতিক সতীত্ব’ হারিয়েছে। একই সঙ্গে দলটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানচিত্রের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
পোস্টে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, “যাদের ৭১-এর দায় আছে, তাদের সঙ্গে জোট করা হবে না।” এছাড়া এনসিপি নেতা পাটোয়ারী জামায়াতকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খান প্রশ্ন তুলে বলেন, “৭১-এর দায় নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট করা রাজনৈতিক সতীত্ব হারানোর শামিল নয় কি? আর যাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি বলা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে জোটে যাওয়া কি দেশের স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নয়?”
তিনি আরও বলেন, এনসিপি ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’-এর নেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তার দাবি, এনসিপির নেতারা শুরু থেকেই বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে দর-কষাকষির উদ্দেশ্যে জোটের কৌশল নিয়েছিল।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, “এনসিপির নেতাদের বয়স কম হলেও তারা গত ১৪-১৫ মাসে যেসব বিতর্কে জড়িয়েছে, বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারাও ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এত বিতর্কে জড়ায়নি। তাদের এসব বিতর্কের দায় আমরা কেন নেব?”
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর সমালোচনাও করেন। রাশেদ খানের দাবি, “সংস্কার ও বিচারের জন্য নয়, বরং এনসিপি গঠনের জন্যই ১৮ মাস সময় নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে এনসিপির প্রধান হিসেবে ড. ইউনূসকে দেখলেও আমি অবাক হব না। এনসিপিকে সময় দেওয়ার বিনিময়ে তিনি নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রতিষ্ঠান বিস্তারের সুযোগ নিয়েছেন।”
পোস্টের শেষদিকে রাশেদ খান দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম নিয়েও বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: