[email protected] মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনীতি ধসে পড়বে: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৬, ২২:১১
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ২২:০৬

সংগৃহিত ছবি

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়বে। তিনি দাবি করেন, জোরপূর্বক যাদের কাছ থেকে ব্যাংকটির শেয়ার নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো অবিলম্বে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি তুলে আলোচনা প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ড. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ব্যাংকটি দখল করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এস আলম নিজের নামেই ৮২ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন। আর যেসব শেয়ার কিনে ৮২ শতাংশ মালিকানা নিয়েছেন, তার মূল্য মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থ দিয়েই এসব শেয়ার কেনা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বিশেষ একটি সংস্থার চাপে দীর্ঘদিনের প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে বিগত সরকার ব্যাংকটিকে “দেউলিয়া করে দিয়েছে” বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যাংকে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “ফ্যাসিস্ট আমলে কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই ১০ হাজার কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি বা কোনো পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। পরে তাদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হলেও কেউ আসেনি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকা কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি তহবিলে গেছে—এমন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে “মেডেল” দেবেন।

তিনি বলেন, “কেউ যদি অসততা বা দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমি শফিকুর রহমান হলেও আমাকে ছাড় দেওয়া যাবে না।”

ড. আবুল বারাকাতের অতীত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জামায়াত ইসলামী হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সাড়ে ১২ বছর ব্যাংকটি দখলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেওয়া যায়নি।”

নিজেকে ইসলামী ব্যাংকের ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, “আমার ১০ টাকা মূল্যের একটি শেয়ার আছে। রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, একজন গ্রাহক ও মালিক হিসেবে আমি আমার অধিকার রক্ষার কথা বলছি।”

বর্তমান চেয়ারম্যানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এস আলমের বিভিন্ন অপকর্মে সহযোগিতা করা ব্যক্তিকেই এখন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এমন একজন অসৎ ব্যক্তিকে একটি সংকটাপন্ন ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো গ্রহণযোগ্য নয়।”

অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ড. শফিকুর রহমান বলেন, “ইসলামী ব্যাংক আস্থার একটি পিরামিড। এটি ধসে পড়লে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের অনাস্থা তৈরি হবে।”

তিনি দাবি করেন, বর্তমানে মাত্র চার দিনে গ্রাহকরা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। প্রবাসীদের মধ্যেও ব্যাংকটি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “কোনো পূর্বধারণা নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংককে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংক আগের অবস্থায় ফিরলে পুরো ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা ফিরবে।”

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর