[email protected] শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
১১ আষাঢ় ১৪৩৩

হামে ৩০০ শিশু মৃত্যুর পরও স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগের কথা ভাবেননি: সংসদে মাসুদ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ১৮:৩২

সংগৃহিত ছবি

দেশে হামে ৩০০ শিশু মারা যাওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগের কথা ভাবেননি—এ প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আলোচনায় শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের সাফল্য শুধু সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর ওপর নির্ভর করে না; বরং সাধারণ মানুষের মুখের হাসিতেই এর প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা শুনলে মনে হয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে বাজারে গিয়ে মানুষ তার সুফল পায় না।

তিনি বলেন, বাজেটের আগে নিজের এলাকায় ‘নাগরিক ভাবনা’ নামে মতবিনিময় করেন। সেখানে মানুষ ও সাংবাদিকরা বলেছেন, সংসদে আলোচনা শুনে মনে হয় সব সমস্যা মিটে গেছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সমস্যাগুলো বক্তৃতায় উঠে আসে না। বাজেটের নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষ তো বটেই, সংসদ সদস্যদেরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাজেট উপস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির অভাবের কথাও তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে বাজেট উপস্থাপনায় ইনফোগ্রাফ, ভিজ্যুয়াল ড্যাশবোর্ড ও সহজ টেবিল ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সেই ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

স্বাস্থ্যখাতের সমালোচনা করে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটি মানবিক হাসপাতালে ৭০০ বেডের মধ্যে ১৮০টি ফ্রি, প্রতিদিন ২৩টি নরমাল ডেলিভারি হয় এবং রোগী-স্বজনদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হয়। অথচ সেখানে মাত্র ছয়টি শিশু মারা যাওয়ার অজুহাতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু দেশে যখন হামে ৩০০ শিশু মারা গেল, তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগের কথা ভাবলেন না কেন—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে অধ্যয়নরত ২৪৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা সচিবের দেখা পাচ্ছেন না। এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির সমালোচনা করে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ১৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু ৪৫ হাজার কোটি টাকায় শেষ হয়েছে। তার ভাষায়, ‘মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি’। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলা হলেও ভাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তা ভালো, কিন্তু এরপর পটুয়াখালী-কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের কুয়াকাটা সফরের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে রাস্তার বাস্তব অবস্থা দেখলে উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে। তৃণমূলের মানুষ সুফল না পেলে মেগা প্রকল্পের অর্থ সার্থক হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর