[email protected] বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

ভালোবাসা, দয়া ও প্রশান্তির বন্ধন স্বামী-স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩

ফাইল ছবি

স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক মহান আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যদি এই সম্পর্ক লালন করা হয়, তাহলে তা মানুষের জীবনে প্রশান্তি এনে দেয় এবং দুঃখ-বেদনা ও হতাশার সময় শক্তি জোগায়। দুনিয়ায় মানুষ সারাক্ষণ সুখের খোঁজে ছুটে বেড়ালেও প্রকৃত সুখের স্থায়ী ঠিকানা যে জান্নাত—তা সবারই জানা। তবে ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়াতেও মানুষের সাময়িক সুখের অন্যতম বড় আশ্রয় হয়ে ওঠে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে প্রশান্তির উৎস হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তিনি মানুষদের মধ্য থেকেই তাদের জন্য স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা একে অপরের কাছে প্রশান্তি লাভ করে। একই সঙ্গে তাদের অন্তরে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন, যা চিন্তাশীল মানুষের জন্য আল্লাহর নিদর্শন। এই আয়াতের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসাকে আল্লাহ তাঁর রহমতের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই কারণেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দাম্পত্য জীবনের ছোট ছোট কাজকেও ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ যখন তার স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দেয়, তাতেও সদকার সওয়াব রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, সংসার জীবনের প্রতিটি ভালোবাসাপূর্ণ আচরণই আল্লাহর কাছে মর্যাদাপূর্ণ হতে পারে।

নবীজির জীবন থেকেই পাওয়া যায় স্ত্রীকে আনন্দ দেওয়ার অসংখ্য দৃষ্টান্ত। তিনি হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, কখনো মজার ছলে, কখনো ভালোবাসার আবেশে স্ত্রীদের সময় দিয়েছেন। এসব আচরণ প্রমাণ করে, স্ত্রীকে শুধু ভরণপোষণ করাই দায়িত্ব নয়, বরং তার মানসিক ও হৃদয়ের সুখ নিশ্চিত করাও স্বামীর কর্তব্য।

মহানবী (সা.) স্ত্রীদের ভালোবাসাসূচক নামেও ডাকতেন। কখনো নাম সংক্ষেপ করে, কখনো প্রশংসাসূচক নামে ডাকতেন। হজরত আয়েশা (রা.)-কে তিনি ‘হে আয়িশ’ বলে সম্বোধন করেছেন এবং আদর করে ‘হুমায়রা’ বলে ডেকেছেন। এই নামগুলো শুধু ডাক নয়, বরং ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রকাশ। আমাদের সমাজেও আদর করে নাম সংক্ষেপ করার যে সংস্কৃতি দেখা যায়, তার সঙ্গে নবীজির এই সুন্নতের মিল পাওয়া যায়।

একসময় হজরত আয়েশা (রা.)-এর অনুরোধে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে একটি উপনামও দেন—‘উম্মে আব্দুল্লাহ’। এর মধ্য দিয়েও তিনি স্ত্রীকে সম্মান ও গুরুত্ব দিয়েছেন।

ইসলাম দাম্পত্য সম্পর্ককে দায়িত্বের পাশাপাশি ভালোবাসা, দয়া ও আন্তরিকতার বন্ধনে আবদ্ধ করতে শেখায়। তাই একজন মুমিনের উচিত, ইসলামের অন্যান্য বিধি-বিধানের সঙ্গে সঙ্গে নবীজির এই সুন্নতগুলোও পালন করা। এতে যেমন সুন্নত পালনের সওয়াব পাওয়া যায়, তেমনি সংসারে বাড়ে সুখ, শান্তি ও হৃদয়ের প্রশান্তি।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর