অত্যন্ত বরকতপূর্ণ ও শক্তিশালী একটি শব্দ হলো ‘আল্লাহু আকবার’। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ধ্বনি উচ্চারণে মুমিনের ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং মহান আল্লাহর রহমত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম তৈরি হয়।
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ‘তাকবির’ তথা তাঁর বড়ত্ব ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনে বলা হয়েছে, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরীক নেই এবং অপমান থেকে বাঁচতে তাঁর কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। সুতরাং তুমি পূর্ণরূপে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা কর।” (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ১১১)
ইসলামী সূত্র মতে, ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির আরেকটি তাৎপর্য হলো—এটি শয়তানকে দুর্বল ও অসহায় করে তোলে। বিশেষ করে আজানের সময় এই ধ্বনি শয়তানের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান শব্দ থেকে বাঁচতে পলায়ন করে। আজান শেষ হলে সে ফিরে আসে। আবার ইকামতের সময় সে দূরে সরে যায় এবং শেষে ফিরে এসে মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয়, যাতে তারা নামাজে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে (বুখারি, হাদিস: ৬০৮)।
এ থেকে বোঝা যায়, আজানের শুরুতে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি শয়তানের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে এবং তাকে অপমানজনক অবস্থায় পলায়নে বাধ্য করে। একইভাবে ইকামতের সময়ও এই ধ্বনি শয়তানকে দুর্বল করে দেয়।
ধর্মীয় বিশ্লেষণে বলা হয়, শয়তানের প্রধান কাজ মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করা এবং বিভিন্ন কুমন্ত্রণা দেওয়া। তবে আল্লাহর নাম ও মহিমা ঘোষণার মাধ্যমে সেই ষড়যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজান শুধু শয়তানকে দূরে সরায় না, বরং পরিবেশকে পবিত্র করে, মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে এবং গাফেল হৃদয়কে জাগ্রত করে। তাই যে সমাজে নিয়মিত আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেখানে শয়তানের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
‘আল্লাহু আকবার’—মাত্র দুটি শব্দ হলেও এটি মুমিনের জীবনে এক বিশাল শক্তির উৎস। এই তাকবির মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, সর্বশক্তিমান ও সর্বমহান একমাত্র আল্লাহ। ফলে মানুষের অন্তরে জন্ম নেয় তাকওয়া, সাহস, প্রশান্তি এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা; দূর হয় ভয় ও হতাশা।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: