[email protected] বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কোরআনের আলোকে আদর্শ শাসক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ মে ২০২৬, ০৯:০৩

ফাইল ছবি

পবিত্র কোরআন কারিমে ন্যায়পরায়ণ ও আল্লাহভীরু শাসকদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ, আর জালিম শাসকদের জন্য রয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা ও ভয়াবহ পরিণতির উল্লেখ।

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন আদর্শ শাসক কেবল ক্ষমতার অধিকারী নন; বরং তিনি আল্লাহভীরু, ন্যায়পরায়ণ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি।

কোরআনে হজরত দাউদ (আ.) ও তাঁর পুত্র সুলাইমান (আ.)-এর শাসনামলের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তারা বিশাল ক্ষমতা ও রাজত্ব লাভ করেও সবকিছুকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে স্বীকার করেছেন এবং তাঁর প্রতি আনুগত্যে অটল ছিলেন। একইভাবে আল্লাহ তাআলা দাউদ (আ.)-কে মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে এবং খেয়ালখুশির অনুসরণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন, যা একজন শাসকের জন্য মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত।

মুসা (আ.) তাঁর অনুপস্থিতিতে হারুন (আ.)-কে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেন, যা শাসকের দায়িত্বশীলতার গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। অপরদিকে জুলকারনাইন (রহ.)-এর ঘটনাতেও দেখা যায়, তিনি ন্যায়নীতি অনুসরণ করে দুরাচারীদের শাস্তি দিয়েছেন এবং সৎলোকদের প্রতি সদাচরণ করেছেন। ইয়াজুজ-মাজুজের অনাচার থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য তিনি অর্থ গ্রহণ না করে বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে জনগণের সহযোগিতায় প্রাচীর নির্মাণ করেন এবং কাজ শেষে নিজের কৃতিত্ব না দেখিয়ে আল্লাহর রহমত হিসেবে স্বীকার করেন।

হজরত ইউসুফ (আ.) দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজ যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে অর্থভাণ্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা শাসকের দক্ষতা ও যোগ্যতার গুরুত্ব তুলে ধরে। অন্যদিকে সুলাইমান (আ.)-এর কাছে উপঢৌকন পাঠানো হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে প্রমাণ করেন, প্রকৃত শাসক কখনো ঘুষ বা পার্থিব লোভে পরিচালিত হন না।

কোরআনে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমানত যথাযথভাবে হকদারের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য। পাশাপাশি শাসকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করা এবং ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার অনুসরণ থেকে বিরত থাকা।

সব মিলিয়ে কোরআনের দৃষ্টিতে একজন আদর্শ শাসক হলেন এমন ব্যক্তি, যিনি আল্লাহভীরু, ন্যায়পরায়ণ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাপূর্ণ এবং সর্বোপরি জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। এসব গুণাবলির বাস্তবায়নই সমাজে শান্তি, ন্যায় ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর