[email protected] রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোরআনের আইন সর্বকালের আধুনিক ও কল্যাণময় জীবনবিধান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৫৪

ফাইল ছবি

মানবসভ্যতার ইতিহাসে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময় নানা আইন, মতবাদ ও শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তবে মানুষের তৈরি প্রতিটি ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধতা, স্বার্থ ও পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, মানুষের সীমিত জ্ঞানের কারণেই এসব ব্যবস্থায় পূর্ণতা আসেনি।

তাদের মতে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত পবিত্র কোরআনই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে রয়েছে ন্যায়বিচার, ভারসাম্য, মানবকল্যাণ ও সর্বযুগে প্রযোজ্য সমাধান। তাই কোরআনের আইনকে কেবল প্রাচীন ধর্মীয় বিধান নয়, বরং সর্বকালের আধুনিক ও বাস্তবমুখী জীবনব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বিন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে।’ (সুরা মায়িদা : ৩)

ইসলামী গবেষকদের মতে, এই আয়াত ইসলামের পূর্ণতা ও চূড়ান্ত জীবনব্যবস্থা হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আধুনিক বিশ্বে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা চলছে, কোরআনে তার মৌলিক নীতিমালা বহু আগেই নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কোরআনের আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিবারব্যবস্থা, নৈতিকতা ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় কোরআনের নির্দেশনাকে আধুনিক সমাজের সংকট সমাধানে কার্যকর বলে মনে করেন ইসলামী চিন্তাবিদরা।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ, সদাচার ও নিকটাত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন।’ (সুরা নাহল : ৯০)

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আয়াতে ইসলামী সমাজব্যবস্থার মৌলিক নীতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থারও মূল আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও কোরআনের বিধানকে মানবকল্যাণমূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সুদভিত্তিক অর্থনীতির কারণে বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ও আর্থিক অস্থিরতা বাড়ছে বলে মত দেন ইসলামী অর্থনীতিবিদরা। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারাহ : ২৭৫)

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকিং ও সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে বিকল্প অর্থনৈতিক মডেল হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও ইসলাম সাম্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মানুষ, আমি তোমাদের এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার।’ (সুরা হুজুরাত : ১৩)

বিদায় হজের ভাষণেও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জাতি-বর্ণভিত্তিক শ্রেষ্ঠত্বকে প্রত্যাখ্যান করে তাকওয়াকেই মর্যাদার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইসলামী গবেষকদের মতে, কোরআনের আইন শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রনীতি, বিচারব্যবস্থা, নারী অধিকার, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক সম্পর্ক ও মানবজীবনের প্রতিটি বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছে।

তারা আরও বলেন, মানব রচিত আইনের ঘনঘন পরিবর্তন ও সামাজিক সংকট প্রমাণ করে যে মানুষের তৈরি আইন চূড়ান্ত সমাধান দিতে সক্ষম নয়। অন্যদিকে কোরআনের মূলনীতি অপরিবর্তনীয় হলেও এর প্রয়োগে রয়েছে যুগোপযোগী ব্যাখ্যা ও ইজতিহাদের সুযোগ।

তাই ইসলাম চৌদ্দশ বছর আগের ধর্ম হলেও আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও মানবকল্যাণের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তারা।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর