[email protected] রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোরবানির পশুর প্রতি দয়া ও মানবিক আচরণের নির্দেশ ইসলামে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ০৯:০৯

ফাইল ছবি

কোরবানি মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলামী শিক্ষায় কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবিকতার শিক্ষা গ্রহণ করা। ইসলাম যেমন মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার নির্দেশ দিয়েছে, তেমনি পশুপাখির প্রতিও সদয় আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

ইসলামী শরিয়তে কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় অযথা কষ্ট দেওয়া নিষেধ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে ইহসান তথা সদয় আচরণ আবশ্যক করেছেন। ... যখন জবাই করবে, তখনও সদয়ভাবে জবাই করবে। তোমরা ছুরি ধারালো করে নেবে এবং জবাইয়ের পশুকে আরাম দেবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৪০৯)

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলছেন, এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, জবাইয়ের সময় পশুর কষ্ট যতটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা করতে হবে এবং এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যা প্রাণীর জন্য অতিরিক্ত যন্ত্রণার কারণ হয়।

তারা আরও বলেন, কোরবানি শুধু আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় প্রথা নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, সংযম ও নৈতিকতার শিক্ষা বহন করে। তাই কোরবানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কাজেও মানবিকতা বজায় রাখা জরুরি।

তবে বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, পশু জবাইয়ের পরপরই চামড়া ছাড়ানো, পায়ের রগ কাটা কিংবা গলায় বারবার খোঁচাখুঁচির মতো কাজ শুরু করা হয়। অথচ তখনও পশুটি পুরোপুরি নিস্তেজ হয়নি। এতে প্রাণীটি তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করে, যা ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা।

ফকিহদের মতে, জবাইয়ের পর পশু পুরোপুরি নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো মাকরুহ। ইসলামী ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

বিশিষ্ট ফকিহ আল্লামা মাওসিলি (রহ.) বলেন, ‘নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো মাকরুহ।’ (আল-ইখতিয়ার : ৫/১২)

আলেমরা জানান, পশুর মৃত্যু সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটার কাজ শুরু করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। তবে এমনটি করা হলে কোরবানির গোশত হারাম হবে না; গোশত হালালই থাকবে। (আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যা : ৫/২৮৭)

তাদের মতে, কোরবানির মাধ্যমে ইসলাম দয়া, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়, নিষ্ঠুরতার নয়। তাই কোরবানি দাতাদের উচিত, পশুর প্রতি সদয় আচরণ করা এবং জবাইয়ের পর সম্পূর্ণ নিস্তেজ হওয়া নিশ্চিত করে পরবর্তী কাজ শুরু করা।

আলেমরা আরও বলেন, কোরবানির প্রতিটি ধাপে শরিয়তসম্মত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা হলে ইবাদতের সৌন্দর্য ও প্রকৃত শিক্ষা ফুটে ওঠে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর