[email protected] শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩

আশুরার রোজার ফজিলত কী? ১০ মহররমের মর্যাদা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৮

ফাইল ছবি

ইসলামে ১০ মহররম বা আশুরার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিন রোজা রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। হাদিসে এসেছে, আশুরার রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী এক বছরের (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে রমজানের রোজা ও আশুরার দিনের রোজার মতো অন্য কোনো রোজার প্রতি এত বেশি গুরুত্ব দিতে দেখেননি। (সহিহ বুখারি: ২০০৬)

এ ছাড়া মহানবী (সা.) বলেছেন, “আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।” (সহিহ মুসলিম: ২৬১৭)

বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ১০ মহররমের দিন আল্লাহ তাআলা নবী হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ ঘটনার কৃতজ্ঞতায় হজরত মুসা (আ.) এ দিনে রোজা রাখতেন।

হিজরতের পর মদিনায় এসে মহানবী (সা.) ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে এর কারণ জানতে চান। তারা জানান, এ দিন আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন, “আমি তোমাদের চেয়েও মুসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী।” এরপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ মুসলিম: ২৫৪৮)

সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে, আশুরার দিন হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়েছিল, হজরত নুহ (আ.)-এর নৌকা নিরাপদে অবতরণ করেছিল কিংবা হজরত ইবরাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে ইসলামি গবেষকদের মতে, এসব ঘটনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ হাদিসের প্রমাণ পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে, মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের প্রায় ৫০ বছর পর ১০ মহররমের দিন কারবালার প্রান্তরে তাঁর প্রিয় দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন। এ কারণে মুসলমানরা এ দিন তাঁর আত্মত্যাগ, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

তবে ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত আশুরার দিনের বিশেষ মর্যাদা বা এ দিনে রোজা রাখার কারণ নয়। আশুরার ফজিলত এবং এ দিনের রোজার বিধান তাঁর শাহাদাতের বহু আগেই মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর