পিৎজা, বার্গার বা বিরিয়ানি যতই খাওয়া হোক না কেন, পেটে ভাত না পড়লে বাঙালির তৃপ্তি মেলে না। শরীরে শক্তি জোগানো ও মানসিক স্বস্তির জন্য ভাতের গুরুত্ব অনেক। তবে ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই ভাত এড়িয়ে চলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে ও সঠিক ধরনের ভাত খেলে ওজন কমানোও সম্ভব।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন কোন ভাত বেশি উপকারী, তা জেনে নেওয়া যাক—
ব্রাউন রাইস
ব্রাউন রাইসের বাইরের স্তরে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও খনিজ পদার্থ থাকে। এই ভাত ধীরে হজম হয়, ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে না। এর গ্লাইসেমিক লোড কম হওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না এবং অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট শরীরে চর্বি হিসেবে জমে না।
রেড রাইস
ওজন নিয়ন্ত্রণে রেড রাইস বেশ কার্যকর। প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কারণে এ চালের রং লাল হয়। এসব উপাদান প্রদাহ কমাতে এবং বিপাক হার বাড়াতে সহায়তা করে। বিপাকক্রিয়া ত্বরান্বিত হলে শরীর জমে থাকা চর্বি শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, রেড রাইস রক্ত বিশুদ্ধ করতে ও শরীরের তাপমাত্রা ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে।
ব্ল্যাক রাইস
কালো ভাত বা ব্ল্যাক রাইসকে আয়ুর্বেদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। ব্ল্যাক রাইসে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চর্বি জমা কমাতে ও বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ভূমিকা রাখে।
বাসমতি চাল
বাসমতি চালে অ্যামাইলোজ নামক বিশেষ ধরনের স্টার্চ থাকে, যা ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং বাড়তি খাওয়ার ইচ্ছা কমে। সাধারণ সাদা চালের তুলনায় বাসমতি চালে ক্যালোরি ও ফ্যাট কম। এছাড়া এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাত পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে সঠিক ধরনের ভাত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে উপকার আরও বাড়ে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: